Tuesday, August 7, 2012

একদা বাউন্ডুলে ….

ঘূম ভাঙ্গল প্রচণ্ড খিদে নিয়ে। রোদ উঠে গেছে মাথার উপর। আকাশ ঘন নীল।
বসন্তের শূরু বলে আকাশ এখন মেঘহীন। ক্ষণে ক্ষণে দখিনা হাওয়া বইছে।
আরামদায়ক আলস্যে চোখ বুজে আসে আমার। নদীর স্রোতের মতো নানা স্মৃতি কড়া
নেড়ে যায় বন্ধ চোখের দরজায়।
কখনো কখনো অনেক বেদনাদায়ক ঘটনাও অনেক সাধারণ মনে হয়। এই যেমন যেদিন আমাকে
বেড়িয়ে পড়তে হলো জীবনের পথে। তখন আমি ছোট। থাকতাম বস্তিতে। আমি আর আমার
মা। বস্তিতে আমার বয়সীরা সবাই খুব কর্মঠ ছিলো। মাকে সাহায্য করতো। কিন্তূ
আমি ছিলাম আলসে। দিন রাত ঘূম আর মায়ের দেয়া খাবার ই আমার বিলাসবহুল মনে
হতো। কিন্তু মায়ের কাছে নয়। তাই তিনি একদিন বের করে দিলেন আমাকে বাড়ি
থেকে। আমি চলে এসেছিলাম নির্বিকারভাবেই। একবারও পিছনে না তাকিয়ে।
বেলা বাড়ছে। বাড়ছে রোদের তেজও। এদিকে পেটের ভেতর যেন ছুঁচোর দল বাদ্য
বাজানো শুরু করেছে। কোথায় গেলে কিছু খেতে পাওয়া যাবে? আচ্ছা আলমের চায়ের
দোকানে যাওয়া যায়।এই সময় একটা ছোট ছেলের বসে থাকার কথা দোকানে। রোজ
দুপুরে সে যা খায় তার একটা অংশ আমাকে দেয়। হয়তো দয়া করেই। কিন্তু তা-ই
যথেষ্ট। আলমের দোকানে গিয়ে হতাশ-ই হতে হলো। অন্য একটা লোক বসে আছে
সেখানে। এই লোক কি আর আমাকে ফ্রী খেতে দেবে! আসলেই অভাগা যেদিকে যায় সাগর
শুকিয়ে যায়। এতদিনে বুঝলাম কথাটা কতখানি সত্যি।
অগত্যা হাঁটতে থাকলাম। অনেকক্ষণ পর একটা মাঠের পাশে এসে পৌঁছলাম। বিকেল
হয়ে এসেছে। সূর্যদেব হেলে পড়েছেন পশ্চিমে। মাঠের পাশেই একরাশ আবর্জনা
স্তুপ করে রাখা। কয়েকটা ভিখিরি ছেলে মেয়ে সেখানে খাবার খুঁজছে। এদের সাথে
ভাব করতে পারলে হয়তো কিছু খেতে পাওয়া যাবে।
একটা মেয়ে তু-তু-তু করে আমাকে ডাকলো। লেজ নাড়তে নাড়তে এগিয়ে গেলাম। হয়তো
আমার মতো কুকুরের জন্য এই আঁস্তাকুড় আর্দশ খাদ্যসম্ভার হতে পারে। কিন্তু
এদের জন্য কেন। ভাবায় আমাকে।










2 comments:

  1. আপনার গল্প পইরা শক খাইছি ..... ভালই লিখছেন.... আরো চাই ভবিষ্যতে :)

    ReplyDelete